বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
“বৈষম্যহীন” সমাজ গঠনের কর্মসূচি কী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
“বৈষম্যহীন” সমাজ গঠনের কর্মসূচি কী
আন্দোলন প্রতিবেদন
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
৫ জুন ’২৪ হাইকোর্ট থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল আদেশ জারি করা হলে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে নামেন। পরে কোটার বৈষম্য নিরসনে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামকরণ করা হয়। তাদের সরকার পতনের কোনো কর্মসূচি ছিল না। “গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির” সংগঠনের নেতৃত্বরা এই আন্দোলনকে তথাকথিত “অরাজনৈতিক” প্লাটফর্মের নাম দিয়ে বাম-গণতান্ত্রিক ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে দূরে রেখেছিল। যদিও সকল ছাত্র সংগঠনই এই আন্দোলনে ছিল। এটা খুবই সহজবোধ্য যে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন একটি পরিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে বাধ্য।
কিন্তু ১৪ জুলাই’২৪ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবমাননাকর বক্তব্যের (“রাজাকারের নাতি-পুতি”) প্রেক্ষিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে সমাবেশ করেন। হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলা করে এবং তারই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই’২৪ পুলিশ এবং ছাত্রলীগের পাণ্ডাদের গুলিতে আবু সাইদসহ ৬ জন শিক্ষার্থী নিহত ও শতাধিক আহত হন।
এই ন্যক্কারজনক হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ১৭ জুলাই থেকে বামপন্থি, গণতান্ত্রিক, সংস্কারবাদী, ডানপন্থী, ধর্মবাদী ইত্যাদি বিভিন্ন পার্টি-সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। তখন নাহিদ ইসলামসহ ৬ জন কেন্দ্রীয় স্তরের সমন্বয়ককে গ্রেফতার করে ডিবি হারুনের কুখ্যাত “ভাতের হোটেলে” একসাথে খাওয়ানো এবং আন্দোলন প্রত্যাহার নাটক চলে। ২ আগস্ট বামপন্থী ছাত্রদের উদ্যোগে ছাত্র-শ্রমিক-বুদ্ধিজীবী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনুষ্ঠিত “দ্রোহ যাত্রা” এই আন্দোলনের স্পিরিট আরও বাড়িয়ে দেয়। ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন হাসিনার পদত্যাগ দাবি তোলে এবং ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা (ঢাকা দখল) কর্মসূচি দেয়। বাম-ডান রাজনৈতিক দলগুলো বহু আগে থেকেই হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করে আসছিল। বাম ধারার সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অস্থায়ী গণসরকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখাও দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও সেই রূপরেখা অনুযায়ী জনগণের সরকার গঠিত হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল কয়েকজন সমন্বয়ক সেনা সমর্থিত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অনুগত ড.ইউনূস এবং বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বুদ্ধিজীবীদের হাতে তুলে দেয়। নিজেরাও কয়েকজন “অন্তর্বর্তী সরকারের” অন্তভুর্ক্ত হয়ে যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের পতাকা উড্ডয়ন করে কতিপয় সমন্বয়ক ক্ষমতার ভাগ নিয়েছে, সরকারের অংশ হয়েছে এবং এখন বহুবিধ রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি পেশ করছে। তারা সরকারে থেকে নতুন রাজনৈতিক পার্টি গঠনের ঘোষণাও কেউ কেউ দিচ্ছে।
কথা হলো, তাদের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কী কর্মসূচি তারা দিয়েছে? অথবা বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থারই বা কী কর্মসূচি তাদের রয়েছে?
তারা এখন বিবিধ সংস্কারের কথা বলে চলেছে। এখনো পর্যন্ত যা কিছু জানা যাচ্ছে তাতে ড.ইউনুস বা কোনো উপদেষ্টা বা এইসব বৈষম্যহীনরা কী কখনো বলেছে যে, তারা সমাজে বুর্জোয়া আর শ্রমিক, কৃষক আর আধা-সামন্ততান্ত্রিকদের মধ্যকার বৈষম্য উঠিয়ে ফেলবে? বৈষম্য পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু একটি সমাজেই উচ্ছেদ হয়েছিল– লেনিন-স্ট্যালিনের রাশিয়ায় ও মাও-এর চীনে, যখন এ দেশগুলো সমাজতান্ত্রিক দেশ ছিল। এরা কি সেরকম সমাজতন্ত্রের কোনো কর্মসূচি দিয়েছে? না।
শুধু শিক্ষা-ব্যবস্থার কথাই দেখা যাক। বিদ্যমান বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। হাসিনার নয়া শিক্ষাক্রম ২০২১ বাতিলের পরিকল্পনা চলছে, কিন্তু তিন ধারার ও বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান। গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সাথে রাজধানীর সুবিখ্যাত কিন্ডার গার্টেনগুলোর তুলনা করে দেখুন– কতটা বৈষম্য চলছে। প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো কি শ্রমিক-কৃষক সন্তানদের জন্য? খোদ ব্যবস্থাতেই বৈষম্য রেখে এর কিছু সংস্কার করে কিভাবে বৈষম্য দূর হবে?
এই ছাত্র-নেতৃত্বের একাংশ আজ সরকারে। উত্তরবঙ্গের কোনো উপদেষ্টা নেই বলে বৈষম্যেবিরোধী নেতারা আঞ্চলিকতাবাদকে ছাত্র-জনতার মধ্যে উসকে দিচ্ছে। যে অঞ্চলের উপদেষ্টা আছে সেই অঞ্চলের শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ জনগণের সাথে বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির যে বৈষম্য রয়েছে তা কি দূর হয়েছে/হবে? আঞ্চলিকতাবাদ/জাতীয়তাবাদ দিয়ে বৈষম্য দূর হয় নাÑ এগুলো শাসকশ্রেণির ক্ষমতায় ভাগ বসানো এবং বৈষম্য সৃষ্টির হাতিয়ার।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পার্টি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবি ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু ’৭১-এর ঘৃণিত গণহত্যাকারী জামাত-শিবিরসহ ভিন্ন গ্রোত্রের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের প্রশ্নে তাদের নিরবতা কীভাবে বৈষম্য বিরোধী হয়?
সংবিধানকে সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করে ক্ষমতায় বসা অন্তর্বর্তী সরকারে সমন্বয়কদের একাংশও রয়েছে। কিন্তু বাইরের সমন্বয়করা সংবিধান বাতিলের দাবি তুললেও সাম্রাজ্যবাদ ও ভারত বিরোধী, ধর্মবিযুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত, নারী ও আদিবাসী বান্ধব গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি তারা তুলছে না। তাদের শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থের কোনো কর্মসূচিও নেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বৈষম্য দূরীকরণের শ্লোগান তুললেও বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার কিছু সংস্কার করে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা যাবে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
“বৈষম্যহীন” সমাজ গঠনের কর্মসূচি কী
৫ জুন ’২৪ হাইকোর্ট থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল আদেশ জারি করা হলে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে নামেন। পরে কোটার বৈষম্য নিরসনে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামকরণ করা হয়। তাদের সরকার পতনের কোনো কর্মসূচি ছিল না। “গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির” সংগঠনের নেতৃত্বরা এই আন্দোলনকে তথাকথিত “অরাজনৈতিক” প্লাটফর্মের নাম দিয়ে বাম-গণতান্ত্রিক ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে দূরে রেখেছিল। যদিও সকল ছাত্র সংগঠনই এই আন্দোলনে ছিল। এটা খুবই সহজবোধ্য যে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন একটি পরিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে বাধ্য।
কিন্তু ১৪ জুলাই’২৪ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবমাননাকর বক্তব্যের (“রাজাকারের নাতি-পুতি”) প্রেক্ষিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে সমাবেশ করেন। হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলা করে এবং তারই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই’২৪ পুলিশ এবং ছাত্রলীগের পাণ্ডাদের গুলিতে আবু সাইদসহ ৬ জন শিক্ষার্থী নিহত ও শতাধিক আহত হন।
এই ন্যক্কারজনক হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ১৭ জুলাই থেকে বামপন্থি, গণতান্ত্রিক, সংস্কারবাদী, ডানপন্থী, ধর্মবাদী ইত্যাদি বিভিন্ন পার্টি-সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করে। তখন নাহিদ ইসলামসহ ৬ জন কেন্দ্রীয় স্তরের সমন্বয়ককে গ্রেফতার করে ডিবি হারুনের কুখ্যাত “ভাতের হোটেলে” একসাথে খাওয়ানো এবং আন্দোলন প্রত্যাহার নাটক চলে। ২ আগস্ট বামপন্থী ছাত্রদের উদ্যোগে ছাত্র-শ্রমিক-বুদ্ধিজীবী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনুষ্ঠিত “দ্রোহ যাত্রা” এই আন্দোলনের স্পিরিট আরও বাড়িয়ে দেয়। ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন হাসিনার পদত্যাগ দাবি তোলে এবং ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা (ঢাকা দখল) কর্মসূচি দেয়। বাম-ডান রাজনৈতিক দলগুলো বহু আগে থেকেই হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করে আসছিল। বাম ধারার সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অস্থায়ী গণসরকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখাও দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও সেই রূপরেখা অনুযায়ী জনগণের সরকার গঠিত হয়নি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল কয়েকজন সমন্বয়ক সেনা সমর্থিত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অনুগত ড.ইউনূস এবং বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বুদ্ধিজীবীদের হাতে তুলে দেয়। নিজেরাও কয়েকজন “অন্তর্বর্তী সরকারের” অন্তভুর্ক্ত হয়ে যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের পতাকা উড্ডয়ন করে কতিপয় সমন্বয়ক ক্ষমতার ভাগ নিয়েছে, সরকারের অংশ হয়েছে এবং এখন বহুবিধ রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি পেশ করছে। তারা সরকারে থেকে নতুন রাজনৈতিক পার্টি গঠনের ঘোষণাও কেউ কেউ দিচ্ছে।
কথা হলো, তাদের বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কী কর্মসূচি তারা দিয়েছে? অথবা বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থারই বা কী কর্মসূচি তাদের রয়েছে?
তারা এখন বিবিধ সংস্কারের কথা বলে চলেছে। এখনো পর্যন্ত যা কিছু জানা যাচ্ছে তাতে ড.ইউনুস বা কোনো উপদেষ্টা বা এইসব বৈষম্যহীনরা কী কখনো বলেছে যে, তারা সমাজে বুর্জোয়া আর শ্রমিক, কৃষক আর আধা-সামন্ততান্ত্রিকদের মধ্যকার বৈষম্য উঠিয়ে ফেলবে? বৈষম্য পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু একটি সমাজেই উচ্ছেদ হয়েছিল– লেনিন-স্ট্যালিনের রাশিয়ায় ও মাও-এর চীনে, যখন এ দেশগুলো সমাজতান্ত্রিক দেশ ছিল। এরা কি সেরকম সমাজতন্ত্রের কোনো কর্মসূচি দিয়েছে? না।
শুধু শিক্ষা-ব্যবস্থার কথাই দেখা যাক। বিদ্যমান বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। হাসিনার নয়া শিক্ষাক্রম ২০২১ বাতিলের পরিকল্পনা চলছে, কিন্তু তিন ধারার ও বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান। গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সাথে রাজধানীর সুবিখ্যাত কিন্ডার গার্টেনগুলোর তুলনা করে দেখুন– কতটা বৈষম্য চলছে। প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো কি শ্রমিক-কৃষক সন্তানদের জন্য? খোদ ব্যবস্থাতেই বৈষম্য রেখে এর কিছু সংস্কার করে কিভাবে বৈষম্য দূর হবে?
এই ছাত্র-নেতৃত্বের একাংশ আজ সরকারে। উত্তরবঙ্গের কোনো উপদেষ্টা নেই বলে বৈষম্যেবিরোধী নেতারা আঞ্চলিকতাবাদকে ছাত্র-জনতার মধ্যে উসকে দিচ্ছে। যে অঞ্চলের উপদেষ্টা আছে সেই অঞ্চলের শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ জনগণের সাথে বুর্জোয়া শাসকশ্রেণির যে বৈষম্য রয়েছে তা কি দূর হয়েছে/হবে? আঞ্চলিকতাবাদ/জাতীয়তাবাদ দিয়ে বৈষম্য দূর হয় নাÑ এগুলো শাসকশ্রেণির ক্ষমতায় ভাগ বসানো এবং বৈষম্য সৃষ্টির হাতিয়ার।
হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পার্টি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবি ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু ’৭১-এর ঘৃণিত গণহত্যাকারী জামাত-শিবিরসহ ভিন্ন গ্রোত্রের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদীদের প্রশ্নে তাদের নিরবতা কীভাবে বৈষম্য বিরোধী হয়?
সংবিধানকে সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করে ক্ষমতায় বসা অন্তর্বর্তী সরকারে সমন্বয়কদের একাংশও রয়েছে। কিন্তু বাইরের সমন্বয়করা সংবিধান বাতিলের দাবি তুললেও সাম্রাজ্যবাদ ও ভারত বিরোধী, ধর্মবিযুক্ত, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত, নারী ও আদিবাসী বান্ধব গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি তারা তুলছে না। তাদের শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থের কোনো কর্মসূচিও নেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বৈষম্য দূরীকরণের শ্লোগান তুললেও বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার কিছু সংস্কার করে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা যাবে না।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র